বন্ধুরা আশা করি সকলে ভালো আছেন। লাইভ চ্যানেলের পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম। আবারও নতুন একটি ওষুধের রিভিউ নিয়ে আপনাদের সামনে চলে এলাম। আজকে আমরা যে ওষুধটি নিয়ে আলোচনা করব ওষুধটি আপনারা স্কিনে দেখতে পাচ্ছেন। ওষুধটির নাম হচ্ছে ক্লোরো ফেনা যেটি। জেনেরিক নাম হচ্ছে ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম। ফিফটি মিলিগ্রাম। দশমিক পঞ্চান্ন মিলিগ্রাম যা মিলিগ্রাম এর সমতুল্য।
এ ওষুধটি বাজারে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। বন্ধুরা আজকে আমরা এ ওষুধটি যেসব বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করব তা হচ্ছে। ওষুধটি কী কী ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ওষুধটির মাত্রা ও সেবনবিধি। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে এ ওষুধটি ব্যবহার করা যাবে কিনা এবং ওষুধটি ব্যবহারের বিভিন্ন সতর্কতা সম্পর্কে আলোচনা করব।
ক্লোফেনাক ট্যাবলেট এর ব্যবহার কি?
বন্ধুরা চলুন জেনে নেওয়া যাক ওষুধটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করি। ট্যাবলেটটি যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় তা হচ্ছে। বাত সংক্রান্ত রোগ, প্রদাহ জনিত ও অবহেলাকারী বাত, দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের জটিল বহুমুখী প্রদাহ, কশেরুকার প্রদাহ, হাড়ের প্রদাহ, কশেরুকার বিচ্যুতি, তীব্র বাতের ব্যথা, গেটে বাতের ব্যথা, আর্থ্রাইটিসের ব্যথা ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়ে থাকে।
এছাড়াও এটি অস্ত্রপাচার ও আঘাতজনিত মচকানো, কালশিটে পড়া, হাড়ের আঘাত, কোমল পেশীর গভীর ক্ষত, তীব্র ব্যথা ও অস্ত্রপাচার জনিত ক্ষত ও আঘাত। তাছাড়াও এটি ধাত্রী ও স্ত্রীরোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে তা হচ্ছে ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাব। জরায়ুর প্রদাহ। জনন নালীর প্রদাহ। স্তনে প্রদাহ এবং ফোলা। নাক কান গলার ক্ষেত্রেও এই ওষুধটি ব্যবহার হয়ে থাকে। নাক, কান ও গলা সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের ব্যথা ও প্রদাহ। অস্ত্রপাচার। পূর্ববর্তী প্রদাহ ও ফোলা বিরোধী চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়ে থাকে। দাঁতের রোগের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার হয়ে থাকে।
ডিক্লোফেনাক ট্যাবলেট খাওয়ার সেরা সময় কখন?
অস্ত্রোপাচারের পরবর্তী ও আঘাতের ফলে সৃষ্ট ব্যথা, প্রদাহ এবং ফোলা ছাড়াও এটি অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়ে থাকে। তা হচ্ছে। মূত্রনালি ও জননেন্দ্রিয়ের ব্যথা। ফুলে যাওয়া। অস্ত্রোপচারের ব্যথা ও প্রদাহ। কিডনি। পিত্তথলির ব্যথায় এ ওষুধটি ব্যবহার হয়ে থাকে। এখন আমরা জানব ওষুধটির মাত্রা ও সেবনবিধি সম্পর্কে। সাধারণত এ ওষুধটি ট্যাবলেট একটি ট্যাবলেট। অর্থাৎ এই ট্যাবলেটটি গিলে খাওয়ার জন্য নয়। এটি এক গ্লাস পানিতে। আপনার একটি ট্যাবলেট ছেড়ে দিতে হবে।
ট্যাবলেট সঙ্গে সঙ্গে গলে যাবে। তখন ওই পানিটুকু আপনাকে খেতে হবে। এটি এভাবে এটি খাওয়ার নিয়ম। এ কারণে এটিকে ডিসপেপসিয়া ট্যাবলেট বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক যারা তাদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দৈনিক ডোজটি হচ্ছে দুই থেকে তিনটি ট্যাবলেট এবং সর্বাধিক দৈনিক ডোজ হচ্ছে 100 মিলিগ্রাম পর্যন্ত খাওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিদিন ডাইক্লোফেনাক ডিটি এর দুটি ট্যাবলেট পর্যাপ্ত ডাইক্লোফেনাক খাবারের আগে অবশ্যই খাওয়া উচিত। আমরা ওষুধটি কীভাবে খেতে হয় সে নিয়মগুলো জানলাম। এবার আমরা ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপনাদের জানাব।
ক্লোফেনাক সাপোজিটরি ৫০
ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম রোগীর শরীরে ভালো ভাবেই সহনীয়। তবে চিকিৎসার প্রাথমিক অবস্থায় পরিপাকতন্ত্রের গোলযোগ, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা অথবা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। এ প্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত মৃদু ধরনের এবং চিকিৎসা চলতে থাকলে মিলিয়ে যায়। চামড়া লাল একজিমা হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জ্বালা পোড়া, চামড়া লাল হয়ে যাওয়া এবং কখনও কখন ও চামড়াতে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে এ ওষুধটি ব্যবহার করা যাবে কিনা? গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে অপরিহার্য্য না হলে ব্যবহার না করাই উত্তম। ক্ষেত্র বিশেষে স্বল্পমাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ওষুধটি ব্যবহারে সতর্কতা। পেপটিক আলসার অথবা পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ হচ্ছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই যেকোনো ওষুধ আপনারা সেবন করবেন।
Clofenac 50mg Tablet: ব্যবহার, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
এখন আমরা আপনাদের ওষুধটির দাম সম্পর্কে জানাবো। ট্যাবলেটটি একটি বক্সে ট্যাবলেট থাকে। এক বক্সের মূল্য হচ্ছে চারশো টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিস ট্যাবলেটের মূল্য হচ্ছে চার টাকা। বন্ধুরা ভালো লেগে থাকলে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করবেন। এবং আমাদের চ্যানেল নতুন হয়ে থাকলে অবশ্যই চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের চ্যানেলের সঙ্গে থাকবেন। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।





