অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে সিকিউরিটির দায়িত্ব পালন করছিলেন পরিতোষ দাস। রাতের বেলায় হঠাৎ ডান হাত পা অবশ হয়ে যেতে থাকে। বেঁকে যায় মুখ, জড়িয়ে যায় কথা। পাশে থাকা সহকর্মীরা কোন দিকে না তাকিয়ে পরিতোষ কে নিয়ে যান নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। পৌঁছুতে তিন ঘন্টা পার হলেও চার ঘন্টার মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করেন।
স্ট্রোক নিশ্চিত হয়ে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই তার শরীরে পুশ করা হয় স্ট্রোক থেকে তড়িৎ মুক্তির ইনজেকশন এলটিএস। এর চব্বিশ ঘন্টা পরেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান পরিতোষ ভৌমিক। পাশটা আগে থাকতাম। সূত্রপাত ওরাই ধরে নিয়েছে এখন ঠিক আছে। চিকিৎসকরা বলছেন, স্ট্রোক করার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে এলটি প্লাস ইঞ্জেকশন পুশ করতে না পারলে পরিতোষের গল্প একেবারেই ভিন্ন হতো। হয়তো উনি সারা জীবনের জন্য বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে থাকতেন বিছা।
ব্রেন স্ট্রোকের জন্য কোন ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়?
কন্টিনিউয়াস ফলোআপ করার পরে সকালবেলা উনাকে ফাইনাল ফলাফল আমরা দেখতে পাই। দেওয়ার সাথে সাথে ইমপ্রুভ হচ্ছিল। ছয় ঘন্টার মধ্যে ওনার যে দুর্বলতাটা ছিল এটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট রিকভারি হয়ে গেছে। 2014 সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চারশো মানুষ স্ট্রোক করার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই নিউরো সায়েন্সে আসতে পেরেছেন। এদের মধ্যে একশ সত্তর জনকে দেয়া হয়েছে এ ক্লিপ্স, যাদের প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছেন। যথাসময়ে পৌঁছানোর পরও উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস সহ নানা কারণে ইনজেকশনটি পুশ করা সম্ভব হয়নি। বাকিদের শরীরে।
তবে স্ট্রোক হবার পর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছুতে না পারা রোগীদের সংখ্যা হাজার হাজার।
পৃথিবীতে সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে আসলেই আল্টিমেটলি দেয়া যায়। 10 জনকে দেয়ার পরে প্রায় নাইন্টি পার্সেন্ট পেশেন্ট হেঁটে বাড়িতে যেতে যেতে পেরেছে। যে রোগীটা স্ট্রোক করার পরে মৃত্যুবরণ করতো। অথবা ডিজঅ্যাবিলিটি মানে এক সাইড প্যারালাইসিস। এ তো হাত পা প্যারালাইজড একটা ডিজঅ্যাবিলিটি থাকতো। সেই ধরনের রোগীকে আমরা মাল্টিপ্লেক্সের মাধ্যমে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে আসার কারণে আমরা ভালো করে দিতে পেররেছে।
স্ট্রোকের পর রেস কিভাবে প্রভাবিত করে?
স্ট্রোক থেকে মুক্তি পাবার সবচেয়ে বড় অন্তরায় সময়। অনেকেই লক্ষণ প্রকাশ পাবার পরও সময় ক্ষেপণ করেন ঘরে। হাসপাতালে আসতে আসতেই পাঁচ থেকে চব্বিশ ঘণ্টা শেষ করে ফেলেন। তখনই হারিয়ে ফেলেন সুস্থ হবার স্বর্ণালী সুযোগ। প্রতি মিনিটে বিশ লক্ষ নিউরন ড্যামেজ হয়। একটা রোগীর স্ট্রোক হয়েছে। এখন আমি হসপিটালে যেতে তিন চার ঘণ্টা দেরি করছি। তেলে কত নিউরন ড্যামেজ হচ্ছে আমরা দেখি না এইজন্যে বুঝি না।
আজকে আপনার সামনে যদি কোনো এক্সিডেন্ট হয় একজন মানুষের স্কিন থেকে ব্লিডিং হচ্ছে। আপনি কিন্তু ওইটাকে সিকিউর করার জন্য দৌড়াবেন। যেভাবেই হোক ব্লিডিং বন্ধ করব। কিন্তু ওইভাবে চিন্তা করেন এই ব্লিডিং টা আসলে কিছুই না। এটা এমনিই বন্ধ হয়ে যাবে, ভালো থাকবে। কিন্তু আমার এত বড় ক্ষতি হচ্ছে প্রতি মিনিটে টোয়েন্টি মিলিয়ন ড্যামেজ হচ্ছে অথচ আমি কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছি অথবা বাসায় বসে আছি প্রপার টাইমে এ কাজটা যদি করতে না পারি তাহলে রোগীটা পার্মানেন্টলি বিকলাঙ্গ হবে অথবা আমরা বাঁচতেই পারব না।
স্ট্রোকের পর রক্ত জমাট বাঁধা রোধের উপায়?
স্ট্রোকের রোগীদের সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছাতে সড়কে বিশেষ লেন চালুর পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই ধরনের রোগীদেরকে। যদি আমরা আনার ব্যবস্থাটা করতে পারি, স্পেশাল কনসিডার করে, তাহলে অনেকের জীবন আমরা বাঁচাতে পারব। যেটা ঢাকা শহরে নাই। বিদেশে কিন্তু সব দেশেই অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আলাদা অ্যাম্বুলেন্সের রোড আছে। এটা হওয়া দরকার।
সরকারিতে, নিউরোসায়েন্স, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোনো কোনো সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে পঞ্চাশ হাজার টাকা সমমূল্যের এই ইনজেকশন। তবে অসহায় রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ইনজেকশনটি দেয়া হচ্ছে। তবে রোগীদের বাঁচাতে সারা দেশের বড় বড় হাসপাতালে এই ইনজেকশনটি সহজলভ্য করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। মুজাহিদ





