ফাঙ্গাল ইনফেকশন আজকে এই বর্ষার সময়ে প্রচুর বেড়ে গেছে। এই ফাঙ্গাল ইনফেকশন হল একটা জীবাণু ঘটিত রোগ। তার মানে যেরকম করোনা হয়েছিল একটা ভাইরাস থেকে তৈরি হওয়া রোগ। এমনকি একটা জীবাণু হল হচ্ছে ফাঙ্গাস ফাঙ্গাস যেটা বিভিন্ন ময়েশ্চার এরিয়াতে বডির বিভিন্ন ফোল্ড আসে, যেরকম প্রাইভেট পার্টস হলো, আন্ডারআর্মস হল এইসব জায়গাগুলোতে হয়। এই ফাঙ্গাল ইনফেকশন টা মোটামুটি ক্ষেত্রে চামড়ার উপরিভাগে থাকে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড়া যখন এটার চামড়া নিচের দিকে উঠে যেতে পারে এবং চামড়ার ডিপার লেয়ার গুলোকে ইনভলভ করতে পারে বা কিছু ফাঙ্গাস যেগুলো বডির ভিতরেও ইনফেকশন হতে পারে। ফাঙ্গাল ইনফেকশন মূলত একটা ছোঁয়াচে রোগ। ধরুন আপনার ফাঙ্গাল ইনফেকশন আছে। আমি আপনার টাওয়াল বা আপনার সোপ ইউজ করলাম বা আপনার সঙ্গে ক্লোজ কন্টাক্টে থাকলাম।
ফাঙ্গাস: কোভিড রোগীদের বাড়তি ঝুঁকি ওষুধ প্রতিরোধী
তাহলে সেখান থেকে আমার ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। এছাড়াও যদি আমরা আন হাইজেনিক ওয়েতে থাকি, ভেজা জামাকাপড় পরে থাকি, যদি আমরা খুব ভালো ক্লিন না থাকি, তাহলে বডির সেই প্রাইভেট পার্টস গুলোতে বা আন্ডারআর্মস বা বডি সেই জায়গাগুলোতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। মূল সিমটম যেটা সেটা হল গায়ে প্রচণ্ড চুলকানি হওয়া এবং সেখানে গোল চাকা চাকা ধরনের একটা স্কিনের রিঅ্যাকশন দেখা যাওয়া।
সেটাকে দেখেই আমরা মূলত ফাঙ্গাল ইনফেকশন বুঝতে পারি এবং ওর মধ্যে হালকা একটা ছাল ওঠা মত ভাব। যেটাকে আমরা স্কেলিং বলি সেটাও পাওয়া যায়। কিন্তু এই সেনটেন্স গুলো আজকের দিনে পুরো চেঞ্জ হয়ে গেছে। কেন না প্রত্যেককেই এখন প্রথম কোথাও গায়ে চুলকানি হলে দোকান থেকে নিয়ে একটা ক্রিম এনে লাগিয়ে ফেলছেন। এতে কি হয়? যেরকম দেখতে হওয়ার কথা ছিল সেই দেখতে হওয়াটা চেঞ্জ হয়ে যায়।
কালো ছত্রাক: লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা
এবং ওই ফাঙ্গাস গুলো যে ওষুধে কাজ করত সেই ওষুধ গুলোতে রেজিস্টেন্ট হয়ে যায়। আর কাজ করে না। তো যারা এই ওষুধগুলো লাগাচ্ছেন তারা হয়তো টেম্পোরারি একটা রিলিফ পাচ্ছেন। কিন্তু তার মানে এই ওষুধগুলো ফাঙ্গাস থেকে আরো বাড়িয়ে তুলবে এবং এটা পুরো শরীরে ছড়াতে থাকবে। তাই এরকম ধরনের কোন ওষুধ লাগালে সেগুলো ইমিডিয়েটলি বন্ধ করুন। আপনারা সেগুলো লাগাবেন না।
আর যদি লাগিয়ে ফেলেছেন বন্ধ করে খুব তাড়াতাড়ি মধ্যে ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যান যাতে তিনি রোগটাকে ধরে তার চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। মূলত এই স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ অ্যাবিউজ এর জন্যে। এই ফাঙ্গাস গুলো আগেকার যা অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওষুধ ছিল তাতে রেজিস্টেন্ট হয়ে গেছে। এবং এই লাস্ট কয়েক বছরে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভারত এবং ভারতের কাছাকাছি যে দেশগুলিতে রয়েছে, সেই দেশগুলোতে ফাঙ্গাসের একটা নতুন স্ট্রেন তৈরি হয়ে গেছে, যেগুলো পুরনো অ্যান্টি ফাঙ্গাল ক্রিমে রেজিস্টেন্ট।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: সংক্রমণ ও প্রতিকার
তাই আমরা নিজেরা প্রথম কথা হল, নিজেরা এটাকে ট্রিটমেন্ট করতে চেষ্টাও করব না। এটার জন্যে আমরা ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যাব। ডার্মাটোলজিস্ট আমরা বিভিন্ন অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম এবং খাবার ওষুধ দিয়ে থাকি। সেই অ্যান্টি ফাঙ্গাল ক্রিম গুলো এবং ওষুধগুলো এই ফাঙ্গাস টাকে কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে। সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশন দু সপ্তাহ থেকে তিন মাসের মধ্যে আমরা সারিয়ে ফেলতে পারি। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি ও স্টেরয়েড জাতীয় ক্রিম লাগিয়ে ফেলেছেন। তাহলে এমনও অনেক পেশেন্ট আছে যাদেরকে ঠিক করতে আমাদের এক বছরেরও বেশি সময় লাগছে।
তাই আবারো বলছি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন থাকলে দোকান থেকে নিয়ে যে জাতীয় ক্রিম গুলোর কথা বলেছি সেই ক্রিম গুলো না লাগানো। একটা হলো হাইজিন মেনটেন করা। প্রত্যেকদিন স্নান করা। ভেজা জামাকাপড়গুলো না পরা। শুকিয়ে নিয়ে আন্ডার গার্মেন্টস গুলোকে পরা। বাকি যে জামাকাপড়গুলো সেগুলোকে আয়রন করে পরা। যদি কারো ফাঙ্গাল ইনফেকশন রয়েছে তার টাওয়েল, তার সোপ, তার জামাকাপড় ব্যবহার না করা। যদি ফাঙ্গাল ইনফেকশন হচ্ছে তাহলে ওটিসি প্রোডাক্ট ওভার দ্য কাউন্টার প্রোডাক্ট দোকান থেকে নিয়ে কোন ক্রিম সেগুলো ব্যবহার না করা। ফাঙ্গাল ইনফেকশন তার থেকেও বাড়তে পারে।





